1 – প্রোগ্রামিং ও পাইথন পরিচিতি

Updated on May 3, 2019 in Competitive Programming
0 on April 30, 2019

“Hello, World!”

নটর ডেম ইনফরমেশন টেকনোলজি ক্লাবের ওয়েবসাইটে সকলকে স্বাগতম। আর স্পেসিফিকালি ওয়েলকাম আমাদের প্রোগ্রামিং টিউটোরিয়াল সিরিজে।

সিরিজ সম্পর্কিত কিছু তথ্যঃ
এই সিরিজে আমরা অনেক কিছু কভার করার চেষ্টা করব। আমার প্ল্যান একদম শূন্য থেকে শুরু করে অনেক এডভান্সড টপিক কভার করার। আমার প্ল্যানিং অনুযায়ী আর্টিকেল লেখার পর তোমাদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তরস্বরূপ আরো বিভিন্ন টপিকের উপর ডিস্কাশন হবে। আই হোপ তোমরা আমাদের টিউটোরিয়ালগুলোকে ফলো করে কন্সেপ্টগুলা ভালোভাবে ক্যাচ করতে পারবে এবং প্রোগ্রামিং করতে ততটা আনন্দ পাবে ঠিক যতটা আমরা এই টিউটোরিয়াল লিখতে আনন্দ পেয়েছি।

এই টিউটোরিয়াল সিরিজে প্রোগ্রামিং শিখতে আমরা পাইথন (Python) প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করব। পাইথন একটা ইন্টারপ্রেটেড (এই ওয়ার্ড সম্পর্কে পরে জানব আমরা), হাই লেভেল ল্যাঙ্গুয়েজ (হাই লেভেল ল্যাঙ্গুয়েজ মানে এই ভাষাটা মানুষের জন্য বোঝা সহজ অর্থাৎ ব্যবহার করা তুলনামূলক সহজ)। পাইথন ব্যবহারের কারণ পাইথন কোড খুব বিগিনার ফ্রেন্ডলি, অর্থাৎ পাইথন শেখার জন্য খুবই সহজ একটা ল্যাঙ্গুয়েজ। তুমি অনেক সহজেই এটা পিক আপ করে নিতে পারবে এবং কোড বুঝতে পারবে। একই সাথে এটা ওপেন সোর্স, ফ্রি এবং পাইথনের ইউজার কমিউনিটি অনেক বড় আর হেল্পফুল। তবে পাইথন শেখা ইজি মানে এই না যে পাইথন কোনো সিরিয়াস ল্যাঙ্গুয়েজ না। পাইথন বর্তমানে গুগল, ফেসবুক, ইউটিউব থেকে শুরু করে বিশ্বের বিভিন্ন টেক জায়ান্ট কোম্পানির ব্যবহৃত ল্যাঙ্গুয়েজ গুলোর মাঝে একটা, সুতরাং বুঝতেই পারছো ল্যাঙ্গুয়েজ হিসেবে পাইথন কত উঁচু মানের (ওয়েল, আসলেই পাইথন উঁচু মানের, কারণ এটা একটা High Level Language… Hehe :3)।

আমরা অনেক কিছু জানলাম, সামনে আরো অনেক কিছু জানব। তো চলো আমরা এগিয়ে যাই। (Love you Don Sir <3)

প্রোগ্রামিং আসলে কী?
তোমাদের মাঝে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক যে এতক্ষণ যে প্রোগ্রামিং প্রোগ্রামিং শুনলাম, এই প্রোগ্রামিংটা আসলে কী? তোমরা হয়ত অনেকেই জানো প্রোগ্রামিং সম্পর্কে। যারা জানো না, তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, প্রোগ্রামিং হলো তোমার কম্পিউটারকে ঠিকঠাক বলে দেয়া যে তুমি ঠিক কী কাজটি ঠিক কী নিয়মে করতে চাচ্ছো। আমরা যেসব সফটওয়্যার দেখি, গেম খেলি সেগুলো প্রত্যেকটাই প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমেই তৈরি করা। তো আমরা যা চাই (সেটা থিওরেটিকালি যেকোনো কিছুই হতে পারে) সেটা কীভাবে কম্পিউটার করতে পারে তা আমরা যদি তাকে বলে দেই, সে কাজটা ঝড়ের গতিতে করে দিতে পারবে। বস্তুত কম্পিউটার একটা বোকা মেশিন, যা তোমার দেয়া ইন্সট্রাকশন ছাড়া কিছুই করতে পারে না। তবে তার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো সে একটা কাজ খুবই দ্রুত করতে পারে এবং অনেক ইনফরমেশন মনে রাখতে পারে। কম্পিউটারকে কাজ বুঝানোই হলো প্রোগ্রামিং। আর বুঝানোর কাজটা করতে হয় প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের মাধ্যমে।

প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ কী?
তবে আমি যদি তোমায় একটা কাজ বুঝাতে চাই, আমাকে তোমার সাথে কথা বলতে হবে। তো কম্পিউটারকে কাজ বুঝানোর জন্য আমাদের কম্পিউটারের সাথেও যোগাযোগ করতে হবে। আমি তোমার সাথে বাংলা বা ইংরেজি ভাষায় যোগাযোগ করতে পারি। কিন্তু কম্পিউটার এই দুটোর কোনোটাই বুঝতে পারে না। আবার বুঝলেও সে হয়ত শিওর হতে পারতো না যে কী করতে হবে। কারণ আমাদের ভাষায় আক্ষরিক অর্থ আর ভাবার্থের বিষয় আছে। আমি যদি বলি আমি ক্লাসরুমে বই হাতে একটা ছেলেকে দেখলাম। এই ক্ষেত্রে, ক্লাসরুমে আসলে কে ছিল? ছেলেটা? আমি? নাকি দুজনেই? আর বইটাই বা কার হাতে ছিল? আমার নাকি ছেলেটার?
এসব ঝামেলার কারণে বাংলা-ইংরেজি ইত্যাদি ভাষা কম্পিউটারকে ইন্সট্রাকশন দেয়ার জন্য ঠিক উপযোগী না। তাই বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ তৈরি করেছেন যেগুলো শুধুমাত্র প্রোগ্রামিং এর জন্যই ডিজাইন করা, কোনো আক্ষরিক অর্থ, ভাবার্থ-এর ঝামেলাও নেই। আমরা এসব প্রোগ্রামিং ভাষা দিয়েই কম্পিউটারকে ইন্সট্রাকশন দিব। পৃথিবীতে হাজার হাজার প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ আছে। তার মাঝে পপুলারগুলা হলোঃ C, C++, Python, Java, JavaScript, Swift, Objective-C, Kotlin, Ruby, Go, Rust ইত্যাদি। আসলে এই লিস্ট শেষ করা খুব কঠিন। তবে আমরা এই সিরিজের জন্য ব্যবহার করব Python Programming Language.

পাইথন নিয়ে কিছু কথাঃ
আমি উপরে পাইথন ব্যবহার করার কারণগুলো বলেছি। এবার একটু হিস্টোরিও জেনে নিই। পাইথন এর আবিষ্কারক হলেন ডাচ প্রোগ্রামার Guido Van Rossum. উনি ১৯৮৯ সালে এটার ইমপ্লিমেন্টেশন শুরু করেন এবং ১৯৯১ সালে পাইথন রিলিজ পায়। এরপর ২০০০ সালে পাইথনের ২.০ ভার্সন এবং ২০০৮ সালে পাইথনের ৩.০ ভার্সনের আবির্ভাব ঘটে। এই লেখাটা যখন লিখছি তখন পাইথনের লেটেস্ট ২.x এবং ৩.x ভার্সন হলো ২.৭.১৬ এবং ৩.৭.৩। তবে এখানে জেনে রাখা ভালো পাইথন ২ এর সাপোর্ট আসছে ২০২০ সালে বন্ধ হয়ে যাবে। পাইথনের ফিউচার হলো পাইথন ৩। সুতরাং আমরা এই সিরিজে পাইথন ৩ ই ব্যবহার করব।

তো আজ এটুকুই। এরপরের পোস্টে আমরা জানব কীভাবে পাইথন ইন্সটল করে আমরা কোড লিখব এবং সেই পোস্ট ফলো করেই আমরা প্রথম প্রোগ্রামও লিখে ফেলব। অনেক শুভ কামনা রইল। তোমরা চাইলে গুগল সার্চ করে পাইথন নিয়ে আরো অনেক কিছু জেনে ফেলতে পারো। কী জানলে তার ফিডব্যাক দিও।

হ্যাপি কোডিং </>

  • Liked by
  • ZooHire
  • Fahim
  • Parenchyma
  • +1
Reply
Loading more replies